চুলের যত্নসহ কাঁচা ডিমের নানান পুষ্টিগুণ
ডিমকে প্রকৃতির ‘মাল্টিভিটামিন’ বলা হয়। সাধারণত আমরা ডিম সেদ্ধ বা ভাজি করে খেতেই অভ্যস্ত। তবে বিশ্বজুড়ে অ্যাথলেট, বডিবিল্ডার এবং পুষ্টিবিদদের একাংশের মধ্যে এখন কাঁচা ডিম খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সঠিক পদ্ধতিতে এবং মানসম্মত কাঁচা ডিম ব্যবহারের উপকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে এখন ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিচ্ছে।
কেন কাঁচা ডিম বিশেষ?
ডিম রান্না করলে এর ভেতরের কিছু সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান যেমন—ভিটামিন এ, ডি এবং বি-১২ এর পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে। কাঁচা ডিমে এই পুষ্টি উপাদানগুলো একদম অক্ষুণ্ণ থাকে। বিশেষ করে এতে থাকা লুটেইন এবং জিক্সানথিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
কাঁচা ডিম ব্যবহারের প্রধান উপকারিতা
পেশি গঠন ও দ্রুত শক্তি: কাঁচা ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা শরীরের পেশি মেরামত ও গঠনে দ্রুত সাহায্য করে। এ কারণেই জিম বা ভারী ব্যায়ামের পর অনেকে প্রোটিন শেকের সাথে কাঁচা ডিম মিশিয়ে পান করেন।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: এতে প্রচুর পরিমাণে কোলিন (Choline) থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সচল রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
চুলের ও ত্বকের যত্নে: কেবল খাবার হিসেবে নয়, রূপচর্চায় কাঁচা ডিমের ব্যবহার অতুলনীয়। কাঁচা ডিমের কুসুম প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: কাঁচা ডিমের কুসুমে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
সাবধানতা: যা আপনার জানা জরুরি
কাঁচা ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো সালমোনেলা নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া। তাই কাঁচা ডিম ব্যবহারের সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:
উন্নত মান: সর্বদা ভালো মানের এবং সঠিকভাবে সংরক্ষিত (পাস্তুরিত হলে সবচেয়ে ভালো) ডিম নির্বাচন করুন।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা: ডিম ব্যবহারের আগে এর খোসা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
শারীরিক অবস্থা: শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাঁচা ডিম খাওয়া উচিত নয়।
সরাসরি কাঁচা ডিম খেতে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্মুদি, মিল্কশেক বা হালকা কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে এটি খাওয়া শুরু করা যেতে পারে।

